লক্ষ্মীপুরে ত্রাণ বঞ্চিতরা ক্ষুব্ধ, কেউ এগিয়ে আসলে হচ্ছে হামলার স্বীকার

মোঃইসমাইল খান সুজন
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:

লক্ষ্মীপুর কমলনগর উপজেলার ৭নং হাজিরহাট ইউনিয়নে ত্রান বঞ্চিত অনেকেই। তারা না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরকারের ত্রাণ তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে না। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানকে বারবার জানানোর পরও কোন সুরাহা হয়নি। ইউনিয়নের অসহায় হতদরিদ্র জনগন করোনা সংকটকালীন সময়ে কোন সাহায্য সহযোগীতা না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। দফায় দফায় ত্রান বিতরন হলেও একমুট চাউল না পাওয়ার অভিযোগ অসহায় হতদরিদ্র ইউনিয়নবাসীর। তার উপর কেউ সাহায্য করতে আসলে তাকে হামলার স্বীকার হতে হয়।

এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদে কোন সাহায্যের জন্য গেলে আগে গুনতে হয় টাকা। ৫/৬ হাজার টাকা ছাড়া এখানে বয়স্ক ভাতা, বিধাব ভাতা, রেশন কার্ড বা অন্য যে কোন সরকারের সাহায্যের তালিকায় নাম লেখানো সম্ভব না। এসব তালিকা তৈরীর কাজ করে আবার চেয়ারম্যানের ভাই।

সরজমিনে হাজিরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গেলে এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলে, সরকার এত ত্রান দিচ্ছে অথচ আমরা এখন পযর্ন্ত কিছুই পাই নাই। কিভাবে আমাদের দিন যায় কেউ খবর নেয় না। মেম্বার চেয়ারম্যান আমাদের কোন খবর রাখে না। তাছাড়া সাহায্য জন্য তালিকায় নাম লেখাতে ভোটার কার্ড নিয়ে গেলে চেয়ারম্যান বলে তার ভাই মোতাহের এর সাথে যোগাযোগ করার জন্য। মোতাহেরের কাছে গেলে সে ৫/৬ হাজার টাকা চায়। যারা টাকা দেয় তাদের নাম তালিকায় উঠে। আমাদের কাছে যদি এত টাকা থাকলে সাহায্য চাইতাম না। আমরা বড় কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। অবহেলিত ত্রান বঞ্চিত এইসব জনগন আরো জানান, কেউ আমাদেরকে সাহায্য করলেও চেয়ারম্যান মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ইতিমধ্যে মানিক আমাদেরকে সাহায্য করায় চেয়ারম্যানরে লোকজন তার উপর হামলা করে বাজারের দোকান ঘরের পিছনে তালাবদ্ধ করে রাখে।

আওয়ামী লীগ নেতা আবুল খায়ের মানিক জানান, প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে আমি নিজস্ব অর্থায়নে এলাকার বাদ পরা অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করি। এতে চেয়ারম্যানের অনুসারীদের রোশানলে পরি। তাছাড়া, তালিকায় নাম লিখাতে টাকা দেওয়ার প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যানের ভাই মোতাহের ও তার লোকজন আমার উপর হাজিরহাট উত্তর বাজার রাস্তার উপর হামলা করে এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। বিষয়টি আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আমিন মাষ্টারকে জানালাম কেন, এজন্য তারা গত ১০ তারিখে লোক মারফত আমাকে ডেকে নিয়ে হাজিরহাট বাজারের জাহান কোক্রারিজের গুদাম ঘরে তালা মেরে আটকে রাখে। পরে এলাকাবাসী খবর পেয়ে আমাকে উদ্ধার করে। এবিষয়ে কমলনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২/৪ জন ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করতেই পারে। কারণ চাহিদার তুলানায় যোগান কম। তাছাড়া মানিকের জমা দেওয়া একশ জনের তালিকা থেকে ২৫/৩০ জনকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। এতেই সে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। তাছাড়া তালিকায় নাম লেখাতে আমার ভাইকে টাকা দিবে কেন। আমার ভাই পরিষদের কে। সব হচ্ছে গুজব, মিথ্যা, বানোয়াট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *