ঝিনাইদহে ত্রাণের জন্য বাড়ছে নিরন্ন মানুষের হাহাকার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

করোনা ভাইরাসের জন্য সাধারন ছুটির মেয়াদ যতোই বাড়ছে ঝিনাইদহের ঘরবন্ধি কর্মহীন নিরন্ন মানুষের খাবারের জন্য হাহাকার ততোই বাড়ছে। তারা একটু খাবারের আশায় জনপ্রতিনিধি, সরকারি অফিস ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কাঙ্খিত ত্রাণ না পেয়ে বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠার সংবাদও আসছে। এরমধ্যে বুধবার (২২ এপ্রিল) ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ত্রাণের জন্য ভূমিহীন নারী-পুরুষরা অবস্থান বিক্ষোভ করেছে। এছাড়া সদর উপজেলা পরিষদ চত্তরের বারান্দায় খাবারের আশায় ফেলে রাখা জাতীয় পরিচয় পত্রের স্তুপের সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। একই ভাবে জেলা সদরসহ ছয় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দিন আনে দিন খায় এমন মানুষের কষ্টের নানা কাহিনী জানা যাচ্ছে।

এদিকে সংকটময় এ সময়ে অনাহারী মানুষের পাশে খাবারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য নিয়ে দাড়িয়েছে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা রাতদিন নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়া মহল্লায় খাবার পৌছে দিচ্ছেন। অনেকে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হট লাইন চালু করেছেন। এসব হটলাইনে খাবারের আবেদন জানালেই তারা তাদের বাড়িতে খাবার পৌছে দিচ্ছেন। এরপরও স্থানীয়রা বলছে, যে খাবার দেওয়া হচ্ছে তা চাহিদার থেকে একেবারেই অপ্রতুল।

জেলার বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সরকারী কর্মকর্তা বলছেন, ত্রাণ দেওয়া শুরু হয়েছে। কেউ অভুক্ত থাকবে না। একে একে সবাই খাবার পাবে। তবে, তাদের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিতে হয়তো একটু সময় লাগবে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে জেলার শৈলকুপা উপজেলা পরিষদের সামনে করোনার প্রভাবে কর্মহীন পৌর এলাকার ঝাউদিয়া আবাসনের দুই শতাধিক ভূমিহীন নারী পূরুষ ত্রাণের জন্য অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেছে। এসময় তারা পৌর এলাকার কোন জনপ্রতিনিধি এখন পর্যন্ত তাদের খোঁজ খবর ও ত্রাণ না দেওয়ায় অভিযোগ করে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন বলে জানা গেছে।

খাবারের জন্য বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঝাউদিয়া আবাসনের বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম, নেহাল উদ্দিন, রোজিনা খাতুন, ভানু বেগমের ভাষ্য, তারা এখন পর্যন্ত সরকারী সাহায্য পায়নি। তাছাড়া পৌর এলাকার কোন জনপ্রতিনিধি তাদের কোন খোঁজ খবর নেয়নি। ২০ থেকে ২৫ দিন আগে স্থানীয় এক ব্যক্তির দেওয়া শুধুমাত্র ৫ কেজি চাউল তারা পেয়েছিলেন। এখন আবাসনের প্রতিটা পরিবার খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। করোনার প্রভাবে তারা কোথাও কাজ করতে পারছে না। সরকারি কোন ত্রাণও তারা পাচ্ছে না। ফলে পেটের জালায় বাধ্য হয়ে তারা এখানে এসেছেন।

শৈলকুপা পৗর মেয়র কাজী আশরাফুল আজম বলেন, জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকে চার টন চাউল বরাদ্দ দিয়েছে। এর সাথে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে আরো তিন টন চাউল যোগ করে পৌর এলাকার নয়টি ওয়ার্ডে ১০ কেজি চাউল ও তিন কেজি আলু বিতরণ করেছেন। ঝাউদিয়া আবাসনের বাসিন্দারা যে একেবারেই পায়নি তা ঠিক না। হয়তো সবাই পায়নি। তবে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম। ফলে সবার ঘরে ত্রাণ পৈৗছাতে পারছেন না।

এর আগের দিন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের বারান্দায় জাতীয় পরিচয় পত্র বা স্মার্ট কার্ডের স্তুপ। সেখানে দাড়িয়েছে আরো অর্ধশত নারী-পুরুষ। সবার হাতে রয়েছে স্মার্ট আইডি বা জাতীয় পত্রের ফটোকপি। সামান্য খাবার বা ত্রাণ পাওয়ার আশায় স্থানীয়রা তাদের পরিচয় পত্রের ফটোকপি এভাবে ফেলে রেখে গেছে। যেখানে এসব কাগজের স্তুপ পড়ে আছে তার সামনেই যত্রতত্র কাগজ না ফেলার জন্য উপজেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ টাঙিয়ে দিয়েছে একটি নোটিশ। তারপরও করোনায় কাজ হারানো অসহায় নারী-পুরুষ একটু খাবারের আশায় রেখে গেছে তাদের পরিচয়পত্র।

পরিচয়পত্র জমা দিতে আসা আজিম বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি জানান, প্রায় এক মাস হলো কাজ বন্ধ। এখনো পর্যন্ত সরকরি কোনো অনুদান পায়নি। কাঠমিস্ত্রির কাজ করি। ঘরে বসে আছি। সকালে শুনলাম এখানে ভোটার আইডি কার্রে ফটোকপি জমা দিলে টাকা পাওয়া যাবে। এজন্য এখানে কার্ড জমা দিলাম।

তবে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা শুভ’র ভাষ্য, ভোটার আইডি কার্ড জমা দিতে হবে এমন কোনো নির্দেশনা আমাদের নেই। আর এমনটা আমরা কাউকেই বলিনি। তারা কেন ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি বারান্দায় জমা দিচ্ছেন তারাই ভালো জানেন।

এ নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের সাথে কথা বলতে অফিসিয়াল মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে গণমাধ্যম কর্মী পরিচয় জানিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন রেসপন্স করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *