নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে কোভিড -১৯ পরিস্থিতির বিষয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং সংলাপ

বাংলাদেশে বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষার পথ প্রদর্শক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে র‌্যাঙ্কিং এ প্রথম স্থান অধিকারী নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউট এর উদ্যোগে ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে ‘সর্বোত্তম আগামীর জন্য: সর্বশেষ কোভিড-১৯ পরিস্থিতির বিষয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং সংলাপ’ শীর্ষক একটি ভার্চুয়াল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।

মহামারি পরিস্থিতি শিক্ষা, বাণিজ্য এবং আমাদের সাধারণ জীবনযাপনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। প্রত্যেকেই গবেষকদের দিকে তাকিয়ে আছে যারা নিরাময়ের একটা সন্ধান বের করতে পারে। তবে তারা কতটা সফল হতে পেরেছেন এবং চিকিত্সা এবং এর উন্নয়নের ইতিবাচক সংবাদ সম্পর্কে আমরা কতটা অবগত? এটি একটি ইন্টারেক্টিভ ওয়েবিনার ছিল যেখানে পেশাদাররা বর্তমানের পরিস্থিতি এবং আমাদের আশাবাদী হওয়ার কারণগুলি সম্পর্কে তাদের মতামত বিনিময় করে যা আমাদের একটি সুন্দর আগামীর জন্য আশাবাদী করে তুলবে।

উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআই এর প্রাক্তন সভাপতি এম. এ. কাসেম।

মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, সরকার দেশের সকল মানুষের নিরাপত্তার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। এসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কবে খুলবে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ কমিটি যে ভাবে নির্দেশনা দিবেন সেই নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলা হবে। আমাদের দেশের বাস্তবতা হল পরিস্থিতি সর্বত্র এক রকম নয়। সব জায়গাতে ছাত্র-ছাত্রীর ঘনত্ব ও এক নয়। সুতারং এই অবস্থায় সকলের জন্য উপযোগী একটা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রিত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা নেওয়ার জন্য আরও একটু সময়ের প্রয়োজন। ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ কমিটি পর্যালোচনা করছেন, সেটা বিবেচনা করে আমরা আগাবো। দেশে লক্ষাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে এতগুলা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরুপে চালু হলে, সে ক্ষেত্রে যে ধরনের ঝুঁকি হতে পারে, সেই ঝুঁকি নেওয়ার জন্য আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা প্রস্থুত সেটা আমাদের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া কোন সিদ্ধান্ত নিব না।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এম. এ. কাসেম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে রাখা যাচ্ছে না কিন্তু একজন শিক্ষার্থী যদি এই ভাবে বেশি দিন পাঠ গ্রহণ থেকে দূরে থাকে তাহলে তা মেধার বিকাশে বাধা হয়ে যাবে। এই জন্য শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষায় উৎসাহিত করতে হবে। গত ৫ মাসে বিভিন্ন খাতে যে ধরনের ক্ষতি হয়েছে সেটি যদি এভাবে চলতে থাকে তা হলে আমাদের সমস্যা আরও বারবে। সুতারং আমাদের দ্রুত একটি উত্তরনের পথ খুজতে হবে সে ব্যাপারে তিনি আলোকপাত করেন। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের মনের জোর রাখতে হবে, মনোবল হারালে চলবে না, নিজেদের এবং নিজেদের পরিবারের যত্ন নিতে হবে এবং নিজের কাজ ভাল ভাবে করতে হবে।

অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, সরকার অত্যন্ত সফলতার সাথে মানুষের মধ্যে করোনা বিষয়ক সচেতনতায় করণীয় বিষয়গুলো অবগত করতে পেরেছে এবং করোনা মোকাবিলায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। করোনাকালীন সময়ে অনেক প্রযুক্তির উন্নয়ন হয়েছে যা সামনে ও আমদের অনেক উপকারে আসবে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সব সময় বাস্তবে ব্যবহারিক গবেষণায় বিশ্বাস করে, যে সব গবেষণা শিল্পে ও সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে, তারই ধারাবাহিকতাতে আজকের ভার্চুয়াল কনফারেন্সর বিষয়গুলো ও সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *