ফেস শিল্ড নাকি মাস্ক?

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস। এরপর দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ২,৮৫৬ জন এবং মারা গেছেন ৪৪ জন। আক্রান্তের সংখ্যায় এবার চীনকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ। বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৮ নম্বরে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত করোনাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। মনে ভয় থাকলেও, করোনাকে সঙ্গে নিয়েই যেতে হচ্ছে কর্মক্ষেত্রে। তবে এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব মেনে চললেও, কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানা সম্ভব হয়ে উঠছে না। কাজেই এই সময়ে সতর্ক থাকার দায়িত্ব নিতে হবে নিজেদেরকেই। সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক ও গ্লাভস্ ব্যবহারের পাশাপাশি মেনে চলতে হবে সামাজিক দূরত্ব। তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে অনেকেই মাস্কের ওপর ফেস শিল্ড ব্যবহার করছেন। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন, করোনাকে এড়াতে মাস্ক নাকি ফেস শিল্ড, কোনটি সবচেয়ে ভালো? বাইরে বের হলে বা গণপরিবহনে উঠলে কোনটি পরা উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রিস্তরীয় মাস্ক সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, অনেকেই সঠিক নিয়মে মাস্ক ব্যবহার করছেন না। কথা বলার সময় মাস্ক থুতনির কাছে নামিয়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার নাকের নিচ থেকে মাস্ক ব্যবহার করছেন। যার ফলে বাড়ছে সংক্রমণের হার। কখনও কখনও আবার মাস্কের পরিবর্তে অনেকে রুমাল ব্যবহার করছেন। রুমালের নিচের দিকটা ফাঁকা থাকার ফলে ভাইরাস প্রবেশ করার সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে, করোনাভাইরাস মূলত মুখ, চোখ ও নাক দিয়ে শরীরের মধ্যে প্রবেশ করে ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। তাই মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি অনেকে আলাদাভাবে চশমা বা সানগ্লাস ব্যবহার করছেন। কিন্তু ফেস শিল্ড ব্যবহার করলে আলাদাভাবে চশমা ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না এবং চোখে, মুখে বা নাকে হাত দেওয়ারও কোনও সুযোগ থাকে না। যার ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। কারণ এটি কপাল থেকে চিবুকের নিচ পর্যন্ত ঢাকা থাকে।

তবে ফেস শিল্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রেও রয়েছে কিছু অসুবিধা। যেমন – এটির দুপাশে অল্প কিছুটা ফাঁকা থাকে। সেই ফাঁকা স্থান দিয়ে হাঁচি বা কাশির ড্রপলেট প্রবেশ করে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। কাজেই আপনি যদি ত্রিস্তরীয় মাস্ক সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করেন তবে ফেস শিল্ড পরার প্রয়োজন পড়ে না।

নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং বাড়তি সতর্কতা গ্রহণে আপনি ফেস শিল্ড ও মাস্ক দুটোই ব্যবহার করতে পারেন। তবে আপনি যদি সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেন, নিজের গাড়িতে যাতায়াত করেন এবং কর্মস্থানে যদি আলাদাভাবে বসেন তবে দুটোর মধ্যে যেকোনও একটা ব্যবহার করলেই চলবে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাবার ক্ষেত্রে দুটো ব্যবহার করতে পারেন। তবে ফেস শিল্ড ব্যবহার করলেও মাস্ক ব্যবহার করতে কখনোই ভুলবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *